গীতার বাণী এমন এক জিনিস, যা হাজার বছর পেরিয়েও পুরোনো হয়নি। ১৮ অধ্যায়, ৭০০ শ্লোক — তার ভেতর থেকে বাছাই করা কথাগুলো এই পাতায় সহজ বাংলায় রাখা হলো, প্রতিটির সঙ্গে অধ্যায় আর শ্লোকের নম্বর। কোনো ব্যাখ্যা চাপিয়ে দেওয়া হয়নি — বাণী নিজেই নিজের কথা বলে। মনের জোর বাড়ানো আরও কথা পাবেন মোটিভেশনাল স্ট্যাটাস বাংলা কালেকশনে, আর পুজো-পার্বণের শুভেচ্ছা খুঁজলে আছে দুর্গা পূজার শুভেচ্ছা।
কর্ম নিয়ে গীতার বাণী
গীতার সবচেয়ে চেনা শিক্ষা কর্ম নিয়েই — কাজ করে যাও, ফলের হিসেব কষো না। পরিশ্রম আর সাফল্যের আরও কথা আছে সাকসেস স্ট্যাটাস বাংলা কালেকশনে।
কর্মে তোমার অধিকার, ফলে কখনও নয়। ফলের আশায় কাজ কোরো না, আবার কাজ ছেড়েও দিও না। — গীতা ২.৪৭
কর্মে দক্ষতাই যোগ। — গীতা ২.৫০
নিজের নির্ধারিত কাজ করে যাও — কাজ না করার চেয়ে কাজ করা শ্রেয়। কাজ ছাড়া তো শরীরটুকুও চলে না। — গীতা ৩.৮
আসক্তি ছেড়ে যে মানুষ নিজের কর্তব্য করে যায়, সে-ই পৌঁছয় পরম প্রাপ্তিতে। — গীতা ৩.১৯
এই পথে কোনো চেষ্টাই বৃথা যায় না, ক্ষতিরও ভয় নেই। এই ধর্মের সামান্য অভ্যাসও বড় ভয় থেকে রক্ষা করে। — গীতা ২.৪০
দোষ থাকলেও নিজের সহজ কর্ম ছেড়ো না। আগুন যেমন ধোঁয়ায় ঢাকা থাকে, সব কাজেই কিছু না কিছু খুঁত থাকে। — গীতা ১৮.৪৮
নিজের ধর্ম অসম্পূর্ণভাবে পালন করাও ভালো, অন্যের ধর্ম নিখুঁতভাবে পালনের চেয়ে। — গীতা ৩.৩৫
শ্রেষ্ঠ মানুষ যা করেন, অন্যরা তা-ই অনুসরণ করে। তিনি যা মানদণ্ড ঠিক করেন, লোকে সেই পথেই চলে। — গীতা ৩.২১
মন ও সংযম নিয়ে বাণী
মনকে বশে আনার কথা গীতায় বারবার এসেছে — অর্জুন নিজেই বলেছিলেন, মন সামলানো বাতাস সামলানোর মতো কঠিন। মন ভালো রাখার আরও কথা আছে পজিটিভ চিন্তার স্ট্যাটাস কালেকশনে।
মন চঞ্চল, বশে রাখা কঠিন — তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু অভ্যাস আর বৈরাগ্য দিয়ে একে বশ করা যায়। — গীতা ৬.৩৫
নিজেই নিজেকে ওঠাও, নিজেকে নামিয়ো না। মানুষ নিজেই নিজের বন্ধু, নিজেই নিজের শত্রু। — গীতা ৬.৫
বাতাসহীন ঘরে প্রদীপের শিখা যেমন কাঁপে না, সংযত মনও তেমনই স্থির থাকে। — গীতা ৬.১৯
যে খুব বেশি খায় বা একেবারেই খায় না, খুব বেশি ঘুমোয় বা জেগেই কাটায় — যোগ তার হয় না। — গীতা ৬.১৬
খাওয়া, চলাফেরা, কাজ আর ঘুম — সব পরিমিত হলে সেই জীবনই দুঃখ দূর করে। — গীতা ৬.১৭
বিষয়ের চিন্তা থেকে আসক্তি, আসক্তি থেকে কামনা, কামনা থেকে ক্রোধ। ক্রোধ থেকে মোহ, মোহে স্মৃতিভ্রম, স্মৃতি হারালে বুদ্ধিনাশ — আর বুদ্ধি গেলে সব যায়। — গীতা ২.৬২-৬৩
ইন্দ্রিয়ের পেছনে ছুটতে থাকা মন মানুষের বুদ্ধি টেনে নিয়ে যায় — ঝড় যেমন টেনে নেয় জলে ভাসা নৌকাকে। — গীতা ২.৬৭
চঞ্চল মন যেখানে যেখানে ছুটে যায়, সেখান থেকে ফিরিয়ে এনে বারবার নিজের বশে আনো। — গীতা ৬.২৬
কাম, ক্রোধ আর লোভ — এই তিনটি আত্মবিনাশের দরজা। এই তিনকেই ত্যাগ করো। — গীতা ১৬.২১
সুখ-দুঃখ ও শান্তির বাণী
সুখ-দুঃখ নিয়ে গীতার কথাগুলো সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে খারাপ সময়ে। জীবনের ওঠাপড়া নিয়ে খোলামেলা আরও কথা পাবেন জীবন নিয়ে স্ট্যাটাস কালেকশনে।
শীত-গ্রীষ্মের মতো সুখ-দুঃখও আসে আর যায় — কোনোটাই চিরস্থায়ী নয়। সহ্য করতে শেখো। — গীতা ২.১৪
সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি, জয়-পরাজয় — সব সমান জেনে কাজে নামো। — গীতা ২.৩৮
নদীর জল সাগরে মিশতে থাকে, তবু সাগর উপচে পড়ে না। কামনা যাঁর মনে ঢুকেও ঢেউ তুলতে পারে না, শান্তি তাঁরই। — গীতা ২.৭০
অস্থির মনে বুদ্ধি টেকে না, ভাবনাও না। ভাবনা ছাড়া শান্তি নেই — আর অশান্ত মানুষের সুখ কোথায়? — গীতা ২.৬৬
সব কামনা ছেড়ে যিনি মমতা আর অহংকার ছাড়া চলেন, শান্তি তিনিই পান। — গীতা ২.৭১
দুঃখে যাঁর মন বিচলিত হয় না, সুখে যাঁর লালসা জাগে না — তিনিই স্থির বুদ্ধির মানুষ। — গীতা ২.৫৬
যা শুরুতে বিষের মতো লাগে অথচ শেষে অমৃতের মতো — সেই সুখই খাঁটি সুখ। — গীতা ১৮.৩৭
সাফল্যে-ব্যর্থতায় সমান থেকে নিজের কাজ করে যাওয়া — এই সমতার নামই যোগ। — গীতা ২.৪৮
জ্ঞান ও সদাচারের বাণী
বিদ্যা আর জ্ঞানের কথা উঠলে বাঙালির মনে আসে সরস্বতী পুজোর সকাল — সেই শুভেচ্ছাগুলো আছে সরস্বতী পূজার শুভেচ্ছা কালেকশনে। আর জ্ঞান নিয়ে গীতা যা বলেছে, তা রইল এখানে।
এই জগতে জ্ঞানের মতো পবিত্র আর কিছু নেই। — গীতা ৪.৩৮
শ্রদ্ধাবান আর সংযমী মানুষই জ্ঞান পায়। আর জ্ঞান পেলে দেরি হয় না পরম শান্তি পেতে। — গীতা ৪.৩৯
প্রণাম, প্রশ্ন আর সেবা দিয়ে জ্ঞানীর কাছে শেখো — যাঁরা সত্য দেখেছেন, তাঁরাই পথ দেখাতে পারেন। — গীতা ৪.৩৪
সবার যখন রাত, সংযমী তখন জেগে থাকেন। আর সবাই যাতে জেগে, জ্ঞানীর চোখে সেটাই অন্ধকার। — গীতা ২.৬৯
জ্বলন্ত আগুন যেমন কাঠকে ছাই করে দেয়, জ্ঞানের আগুনও সব কর্মবন্ধন ছাই করে দেয়। — গীতা ৪.৩৭
যে কথা কাউকে আঘাত করে না — সত্য, প্রিয় আর হিতকর — সেটাই বাণীর তপস্যা। — গীতা ১৭.১৫
যিনি সবার সুখ-দুঃখকে নিজের সুখ-দুঃখের মতো করে দেখেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ যোগী। — গীতা ৬.৩২
ফেরত পাওয়ার আশা না রেখে, ঠিক জায়গায়, ঠিক সময়ে, যোগ্য মানুষকে যে দান — সেটাই সাত্ত্বিক দান। — গীতা ১৭.২০
আত্মা ও জীবন-মৃত্যুর বাণী
গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ের এই শ্লোকগুলো মানুষ শোনে জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোয়। কঠিন কথা, কিন্তু ভরসারও।
আত্মার জন্ম নেই, মৃত্যুও নেই। শরীর যায়, আত্মা যায় না। — গীতা ২.২০
পুরোনো কাপড় ছেড়ে মানুষ যেমন নতুন কাপড় পরে, আত্মাও তেমনই জীর্ণ শরীর ছেড়ে নতুন শরীর নেয়। — গীতা ২.২২
অস্ত্র আত্মাকে কাটতে পারে না, আগুন পোড়াতে পারে না, জল ভেজাতে পারে না, বাতাস শুকোতে পারে না। — গীতা ২.২৩
যার জন্ম হয়েছে তার মৃত্যু নিশ্চিত, যার মৃত্যু হয়েছে তার জন্মও। যা অনিবার্য, তার জন্য শোক সাজে না। — গীতা ২.২৭
শৈশব, যৌবন, বার্ধক্য — এক শরীরেই সব বদলে যায়। জ্ঞানী মানুষ এই বদলে বিচলিত হন না। — গীতা ২.১৩
পদ্মপাতা যেমন জলে থেকেও ভেজে না, আসক্তি ছেড়ে কাজ করে যাওয়া মানুষকেও পাপ ছুঁতে পারে না। — গীতা ৫.১০
আমিই সব প্রাণীর হৃদয়ে থাকা আত্মা — সবার শুরু, মাঝ আর শেষ। — গীতা ১০.২০
ভক্তি ও ভরসার বাণী
ভক্তির কথায় গীতা সবচেয়ে নরম — শর্ত নয়, ভরসার কথা। শ্যামা মায়ের ভক্তদের জন্য আলাদা করে আছে কালী পূজার শুভেচ্ছা কালেকশন, আর গীতার ভরসার বাণীগুলো রইল এই ঘরে।
যখনই ধর্মের গ্লানি আর অধর্মের বাড়বাড়ন্ত, তখনই আমি আসি। সাধুদের রক্ষায়, দুষ্কৃতের বিনাশে, ধর্মের প্রতিষ্ঠায় — যুগে যুগে আমি আসি। — গীতা ৪.৭-৮
সব ছেড়ে আমার শরণে এসো। আমি তোমাকে সব পাপ থেকে মুক্ত করব — শোক কোরো না। — গীতা ১৮.৬৬
পাতা, ফুল, ফল বা জল — ভক্তি নিয়ে যে যা-ই দেয়, আমি তা-ই গ্রহণ করি। — গীতা ৯.২৬
যাঁরা অনন্য মনে আমাকে ভাবেন, তাঁদের ভার আমি নিজে বহন করি। — গীতা ৯.২২
যে কারও প্রতি দ্বেষ রাখে না, সবার বন্ধু, সবার প্রতি দয়ালু — সে-ই আমার প্রিয়। — গীতা ১২.১৩
যাকে দেখে জগৎ উদ্বিগ্ন হয় না, জগৎ দেখেও যে উদ্বিগ্ন হয় না — সে আমার প্রিয়। — গীতা ১২.১৫
ভালো কাজ যে করে, তার দুর্গতি হয় না — এই জগতেও না, পরেও না। — গীতা ৬.৪০
যে সদা সন্তুষ্ট, সংযত আর দৃঢ় সংকল্পের মানুষ, মন-বুদ্ধি যে আমাকে সঁপে দিয়েছে — সেই ভক্ত আমার প্রিয়। — গীতা ১২.১৪
গীতার বাণী কীভাবে ব্যবহার করবেন
দিনের শুরুতে একটা বাণী পড়ে নেওয়া অনেকের বহু দিনের অভ্যাস — সকালের স্ট্যাটাসের সঙ্গে জুড়ে দিতে চাইলে সকালের স্ট্যাটাস বাংলা কালেকশনটাও ঘুরে দেখুন। স্ট্যাটাসে দেওয়ার সময় শ্লোক নম্বরটা রেখে দিন — যিনি পড়বেন, তিনি চাইলে মূল শ্লোকটা খুঁজে মিলিয়ে নিতে পারবেন। আর যে বাণীটা আজকের মনের অবস্থার সঙ্গে মেলে, সেটাই আজকের বাণী — একসঙ্গে দশটা দেওয়ার দরকার হয় না।