৫৬টা জোকস, সাতটা ভাগে, প্রতিটা নতুন করে লেখা। একটা জোকস মানে ছোট্ট একটা গল্প: দু-এক লাইনে পরিস্থিতি, তারপর শেষ লাইনে মোচড়। এই ঢংটাই একে স্ট্যাটাসের থেকে আলাদা করে; স্ট্যাটাস আপনি নিজের নামে বসান, জোকস আপনি কাউকে বলেন বা গ্রুপে পাঠান। এক লাইনের হাসির লাইন খুঁজলে মজার স্ট্যাটাস বাংলা কালেকশনটা দেখুন, আর সাতটা ক্যাটাগরির সব লাইন একসঙ্গে পাবেন বাংলা WhatsApp স্ট্যাটাস পাতায়।
পাঞ্চলাইনটা সবসময় শেষে। মাঝপথে থামলে জোকস আর জোকস থাকে না।
শিক্ষক আর ছাত্রের জোকস
ক্লাসরুম জোকসের সবচেয়ে পুরোনো মঞ্চ, কারণ ওখানে একজন প্রশ্ন করেই যায় আর অন্যজন উত্তর এড়িয়েই যায়। যারা সত্যিই পরীক্ষার আগে একটু মনের জোর খুঁজছেন, তাদের জন্য পড়াশোনার স্ট্যাটাস বাংলা কালেকশনটা আলাদা করে রাখা আছে।
শিক্ষক: তোমার হোমওয়ার্ক কোথায়? ছাত্র: স্যার, কাল রাতে কারেন্ট ছিল না। শিক্ষক: মোমবাতি জ্বালাওনি? ছাত্র: জ্বালিয়েছিলাম স্যার, কিন্তু সেই আলোয় শুধু মোবাইলটাই খুঁজে পেয়েছি।
শিক্ষক: ক্লাসে ঘুমোচ্ছ কেন? ছাত্র: ঘুমোচ্ছি না স্যার, চোখ বন্ধ করে আপনার কথাগুলো মনে গেঁথে নিচ্ছি। শিক্ষক: তাহলে নাক ডাকছ কেন? ছাত্র: ওটা সেভ হওয়ার শব্দ, স্যার।
শিক্ষক: তোমার আর পাশের ছেলের উত্তর হুবহু এক কেন? ছাত্র: স্যার, প্রশ্নও তো হুবহু এক ছিল।
শিক্ষক: জলের রাসায়নিক নাম কী? ছাত্র: স্যার, আমাদের পাড়ায় ওটার নাম "সকাল সাতটা থেকে আটটা"।
শিক্ষক: খাতায় শুধু তারিখ লেখা কেন? ছাত্র: স্যার, আপনিই বলেছিলেন, যেটা নিশ্চিত জানি শুধু সেটাই লিখতে।
শিক্ষক: অঙ্কে ছয় পেয়েছ, বাড়িতে কী বলবে? ছাত্র: বলব স্যার, ক্লাসে ছয় জনের মধ্যে ফার্স্ট হয়েছি। শিক্ষক: ক্লাসে তো চল্লিশ জন। ছাত্র: বাবা তো সেটা জানেন না, স্যার।
অভিভাবক: স্যার, আমার ছেলে বাড়িতে সারাক্ষণ বই নিয়ে বসে থাকে। শিক্ষক: তা তো খুব ভালো। অভিভাবক: বইয়ের ওপর মোবাইলটা রেখে।
শিক্ষক: তোমার রচনায় "আমার প্রিয় বন্ধু" মানে কে? ছাত্র: গুগল, স্যার। শিক্ষক: কেন? ছাত্র: একমাত্র ও-ই কখনও বলে না, "এটাও জানিস না?"
ডাক্তার আর রোগীর জোকস
চেম্বারের বাইরের লাইন, ভেতরের প্রেসক্রিপশন আর তার হাতের লেখা, সবটাই জোকসের কাঁচামাল। এখানে কোনো ওষুধ নেই, শুধু হাসি।
রোগী: ডাক্তারবাবু, রাতে ঘুম আসে না। ডাক্তার: শোওয়ার আগে ফোনটা দূরে রাখুন। রোগী: রেখেছিলাম তো, তারপর সারারাত ভাবলাম কে মেসেজ করল।
ডাক্তার: রোজ সকালে হাঁটতে বলেছিলাম, হাঁটছেন? রোগী: হাঁটছি তো ডাক্তারবাবু, রোজ সকালে বিছানা থেকে ফ্রিজ পর্যন্ত।
রোগী: ডাক্তারবাবু, মিষ্টি কি একদম বন্ধ? ডাক্তার: একদম। রোগী: রসগোল্লার রসটা তো জল, ওটা চলবে তো?
ডাক্তার: ওষুধটা খাবারের পরে খাবেন। রোগী: কোন খাবারের পরে? ডাক্তার: যেকোনো। রোগী: তাহলে দিনে আটবার, আমি তো আটবার খাই।
ডাক্তার: প্রেশার এত বেশি কেন? কী নিয়ে টেনশন? রোগী: বাইরে বসে আপনার ফি-টা হিসেব করছিলাম।
ডাক্তার: সিগারেট ছেড়েছেন? রোগী: হ্যাঁ, গত মাসে। ডাক্তার: বাহ। রোগী: এই মাসে আবার ধরেছি, নইলে সামনের মাসে ছাড়ব কী করে?
রোগী: ডাক্তারবাবু, প্রেসক্রিপশনটা একটু পড়ে দিন। ডাক্তার: কেন, দোকানদার পড়তে পারেনি? রোগী: দোকানদার পড়েছে, আমার মেয়ে দেখে বলল এটা ইংরেজি না, ডিজাইন।
ডাক্তার: দিনে কত গ্লাস জল খান? রোগী: চা ধরে?
স্বামী-স্ত্রীর জোকস
সংসারের জোকসে জেতে কেউ না, হাসে দুজনেই। মিষ্টি কথার দিকটা চাইলে স্বামী-স্ত্রীর স্ট্যাটাস বাংলা কালেকশনে আছে; এখানে শুধু ঝগড়ার হালকা দিকটা।
স্ত্রী: তুমি আমার কথা শোনো না কেন? স্বামী: শুনি তো। স্ত্রী: তাহলে বলো, এইমাত্র কী বললাম? স্বামী: বললে, আমি তোমার কথা শুনি না।
স্বামী: আজ রাতে বাইরে খাব? স্ত্রী: বাহ, কোথায়? স্বামী: বারান্দায়। তুমি রান্না করো, আমি টেবিলটা নিয়ে যাই।
স্ত্রী: বাজার থেকে কী কী এনেছ? স্বামী: তুমি যা লিখে দিয়েছিলে। স্ত্রী: লিস্টে তো চিপস ছিল না। স্বামী: ওটা মার্জিনে লেখা ছিল, আমার হাতের লেখায়।
স্বামী: বিয়ের আগে তুমি বলতে আমার সব কথা ভালো লাগে। স্ত্রী: তখন তুমি কম কথা বলতে।
স্ত্রী: শাড়িটা কেমন লাগছে, সত্যি করে বলো। স্বামী: সত্যি? স্ত্রী: হ্যাঁ। স্বামী: তুমি কোন উত্তরটা চাও, আগে সেটা বলো।
স্ত্রী: তুমি আমার জন্মদিন ভুলে গেছ! স্বামী: ভুলিনি, সারপ্রাইজটা একটু দেরিতে দিচ্ছি। স্ত্রী: কত দেরিতে? স্বামী: দোকান খোলা পর্যন্ত।
স্ত্রী: তুমি ঘুমের মধ্যে আমার নাম বলছিলে। স্বামী: দেখলে, ঘুমেও তোমাকেই ভাবি। স্ত্রী: বলছিলে, "না গো, আমি বাজারে যাব না।"
স্বামী: এসি চালালে বিল আসবে। স্ত্রী: বিয়ের সময় বলেছিলে চাঁদ এনে দেবে। স্বামী: চাঁদে বিল লাগে না।
অফিস আর বসের জোকস
সোমবার সকাল, ডেডলাইন, আর "নোটেড" লেখা রিপ্লাই। বসকে যা মুখে বলা যায় না, সেটা স্ট্যাটাসে বলতে চাইলে অ্যাটিটিউড স্ট্যাটাস বাংলা আছে; এখানে যা আছে সেটা বসকে পাঠাবেন না।
বস: তুমি আজ আবার দেরি! কর্মচারী: স্যার, আপনিই তো বলেছেন, কাজে তাড়াহুড়ো করা ভালো না।
বস: এই রিপোর্টে তিনটে ভুল। কর্মচারী: স্যার, চারটে ছিল। একটা ঠিক করেছি, বাকিগুলো টিমওয়ার্কের জন্য রেখেছি।
কর্মচারী: স্যার, মাইনে বাড়ানোর কথা ছিল। বস: কথাটা তো এখনও আছে, কেউ সরায়নি।
বস: অফিসে ফেসবুক চালাচ্ছ? কর্মচারী: না স্যার, কোম্পানির পেজে লাইক দিচ্ছি। বস: আমাদের কোম্পানির পেজ আছে? কর্মচারী: ওই যে স্যার, সেটাই খুঁজছিলাম।
HR: আগের চাকরিটা ছাড়লেন কেন? প্রার্থী: ওখানে বস আমার কাজে খুশি ছিলেন না। HR: কোন কাজে? প্রার্থী: চাকরি খোঁজার কাজে।
বস: কাল ছুটি চাই কেন? কর্মচারী: স্যার, বউ বলেছে আমাকে একটা দিন বাড়িতে দেখতে চায়। বস: বেশ, ছুটি দিলাম। কর্মচারী: স্যার, ওটা বউ বলেছে, আমি বলিনি। আপনি বরং না দিন।
কর্মচারী: স্যার, আমি চাকরি ছাড়ছি। বস: কেন? কর্মচারী: অন্য কোম্পানি বেশি দিচ্ছে। বস: কত বেশি? কর্মচারী: ছুটি, স্যার।
বস: ইমেলটা পড়েছ? কর্মচারী: হ্যাঁ স্যার। বস: কী লেখা ছিল? কর্মচারী: পড়েছি স্যার, বুঝিনি, রিপ্লাইও দিয়েছি, "নোটেড"।
বন্ধুদের নিয়ে জোকস
ধার, বাইক, রাত দুটোর ফোন। যে বন্ধুকে এই জোকসগুলো পাঠাবেন, তাকেই আবার একটা ভালো কথা বলতে হলে দোস্তি স্ট্যাটাস বাংলা কালেকশনটা কাজে লাগবে।
বন্ধু: তোকে দশ টাকা দিয়েছিলাম, মনে আছে? আমি: আছে। বন্ধু: ফেরত দিবি কবে? আমি: তুই মনে করিয়ে দিলি বলেই তো মনে আছে।
বন্ধু ১: গোয়া যাবি? বন্ধু ২: প্ল্যান করেছিস? বন্ধু ১: হ্যাঁ, গ্রুপ বানিয়েছি। বন্ধু ২: তারপর? বন্ধু ১: তারপর কি আর কেউ গোয়া গেছে?
বন্ধু: কাল আমার বিয়েতে আসছিস তো? আমি: অবশ্যই, মেনু কী? বন্ধু: আগে বল আসছিস কি না। আমি: আগে মেনু বল, তারপর বলছি।
বন্ধু ১: বাইকটা একদিনের জন্য দিবি? বন্ধু ২: দেব, কিন্তু আগের বার যেভাবে ফেরত দিয়েছিলি সেভাবে না। বন্ধু ১: কীভাবে দিয়েছিলাম? বন্ধু ২: ফোনে। "ভাই, বাইকটা থানায় আছে।"
বন্ধু: রাত দুটোয় ফোন করলি কেন? আমি: ভাবলাম তুই জেগে আছিস। বন্ধু: ছিলাম না। আমি: এখন তো আছিস, শোন না।
বন্ধু ১: কাল ক্লাসে আমার হয়ে প্রেজেন্ট বলেছিলি? বন্ধু ২: হ্যাঁ। বন্ধু ১: স্যার কিছু বলেননি? বন্ধু ২: বলেছেন, "দুজনেই কাল থেকে আসিস না।"
বন্ধু: তুই আমার জন্মদিন ভুলে গেছিস! আমি: ভুলিনি, রাত বারোটায় প্রথম উইশ করব ভেবে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। বন্ধু: সেটা তিন দিন আগে ছিল। আমি: ঘুমটা একটু লম্বা হয়ে গেছে।
বন্ধু: চা খাবি? আমি: টাকা আছে? বন্ধু: না। আমি: তাহলে জিজ্ঞেস করছিস কেন? বন্ধু: ভাবলাম তোর আছে কি না জেনে নিই।
বাবা-মা আর বাচ্চাদের জোকস
বাড়ির জোকসে সবচেয়ে বড় প্রতিভা বাচ্চারা, কারণ ওরা প্রশ্নের উত্তর দেয় না, প্রশ্ন ফেরত দেয়। পারিবারিক গ্রুপে এগুলো সবচেয়ে বেশি চলে।
মা: সারাদিন ফোন! পড়াশোনা কখন করবি? ছেলে: মা, ইউটিউবে পড়ছি। মা: কী পড়ছিস? ছেলে: কমেন্ট।
বাবা: এই রেজাল্ট নিয়ে তুই খুশি? ছেলে: বাবা, আমার বয়সে তোমার রেজাল্ট কেমন ছিল? বাবা: সেটা দাদুকে জিজ্ঞেস করিস, তোর সামনে বলব না।
মেয়ে: মা, আমি বড় হয়ে কী হব? মা: যা খুশি। মেয়ে: তাহলে আজ থেকে কোচিংটা বন্ধ?
মা: টিভিটা বন্ধ কর, কাল পরীক্ষা। ছেলে: মা, এটাই তো রিভিশন। মা: কীসের? ছেলে: বসে থাকার প্র্যাকটিস, কাল তিন ঘণ্টা বসতে হবে।
বাচ্চা: বাবা, তুমি ছোটবেলায় দুষ্টু ছিলে? বাবা: একদম না। বাচ্চা: তাহলে ঠাকুমা কার কথা বলে সবসময় হাসে?
মা: এত রাতে আলো জ্বলছে কেন? ছেলে: পড়ছি। মা: বই কোথায়? ছেলে: বইয়ের পিডিএফ, মা।
বাবা: রিপোর্ট কার্ডে সই করার আগে বল, কত পেয়েছিস? ছেলে: বাবা, আগে সই করো, তারপর বলছি। বাবা: কেন? ছেলে: হাত কাঁপলে সই মিলবে না।
বাচ্চা: মা, আমাকে একটা ছোট ভাই এনে দাও। মা: কেন? বাচ্চা: বকা খাওয়ার জন্য একজন পার্টনার দরকার।
ছোট জোকস — WhatsApp-এ পাঠানোর মতো
দুই লাইনের জোকস, যেগুলো পড়তে তিন সেকেন্ড লাগে। এগুলোও গল্প, শুধু গল্পটা ছোট; আরও ছোট মাপের সাধারণ লাইন চাইলে ছোট স্ট্যাটাস বাংলা কালেকশন আছে।
প্রশ্ন: সোমবার আর দাঁতের ডাক্তারের মধ্যে মিল কী? উত্তর: দুটোই আসছে জেনেও মন মানে না।
আমি: আজ থেকে ডায়েট। ফ্রিজ: দরজাটা খুলে রেখো, আমি শুনছি।
মা: খেতে আয়। আমি: আসছি। (আধ ঘণ্টা পর) মা: আসছি মানে কি অন্য বাড়ি থেকে আসছিস?
দোকানদার: খুচরো নেই? আমি: গুগল পে? দোকানদার: নেটওয়ার্ক নেই। আমি: তাহলে ধার লিখে রাখুন, নেটওয়ার্ক এলে দেব।
আমি: গুগল, আমার ফোন কোথায়? গুগল: আমাকে ফোনেই জিজ্ঞেস করছেন।
ঘড়ি: সকাল ছয়টা। আমি: আর পাঁচ মিনিট। ঘড়ি: সকাল দশটা।
আমি: আজ তাড়াতাড়ি ঘুমোব। ফোন: একটা ভিডিও আছে, মাত্র সাত মিনিট। ঘড়ি: রাত তিনটে।
ছোট ভাই: দাদা, তোমার পাসওয়ার্ড কী? আমি: বলব না। ছোট ভাই: ঠিক আছে, মাকে বলব দাদা কাল কী খুঁজছিল। আমি: বড় হাতের বি, তারপর...
জোকস পাঠানোর আগে দুটো কথা
একটা জোকস কোন গ্রুপে যাচ্ছে, সেটা জোকসটার চেয়ে জরুরি। অফিসের বসের জোকস অফিসের গ্রুপে পাঠালে হাসিটা আপনার দিকে ফিরে আসতে পারে, আর স্বামী-স্ত্রীর জোকস পারিবারিক গ্রুপে দেওয়ার আগে একবার ভাবুন কে কে আছেন। ওপরের প্রতিটা জোকস তাই এমনভাবে লেখা যাতে কাউকে ছোট না করতে হয়; ধর্ম, চেহারা বা পেশা নিয়ে ঠাট্টা এই পাতায় নেই।
গ্রুপে পাঠানোর সেরা সময় সন্ধে সাতটা থেকে দশটা, যখন সবাই ফোন হাতে বসে। পুজোর মাসে এই সময়টা আরও লম্বা হয়, প্যান্ডেলের আড্ডায় জোকসের চাহিদা বাড়ে আর শুভেচ্ছার মেসেজও বাড়ে; সেই কাজটার জন্য দুর্গা পুজোর শুভেচ্ছা বাংলা পাতাটা তৈরি আছে।
জোকস বলার নিয়ম একটাই: পাঞ্চলাইনের পরে আর একটা শব্দও না। ওপরের ছাপ্পান্নটার প্রতিটা সেই শেষ শব্দে থেমেছে, ব্যাখ্যা করেনি। ফরওয়ার্ড করার সময় আপনিও ওখানেই থামুন।