১৯৩১ সাল থেকে আকাশবাণী কলকাতা মহালয়ার ভোর চারটেয় মহিষাসুরমর্দিনী বাজায়, আর সেই চণ্ডীপাঠের সুরেই বাঙালির পুজোর মরসুম শুরু হয়। মহালয়া পিতৃপক্ষের শেষ দিন; গঙ্গার ঘাটে ভোরে তর্পণ, কুমোরটুলিতে প্রতিমার চক্ষুদান, আর তার পর থেকেই দেবীপক্ষ। ২০২৬-এ মহালয়া পড়েছে ১০ অক্টোবর, শনিবার। এই পাতায় সেই দিনটার জন্য ৫৩টা নতুন শুভেচ্ছা ও স্ট্যাটাস, সবটাই বাংলায়, সবটাই এই সাইটের নিজের লেখা।
মহালয়ার শুভেচ্ছা আর পুজোর শুভেচ্ছা এক জিনিস নয়। মহালয়া আগমনীর দিন, মা আসছেন; ষষ্ঠী থেকে দশমীর বার্তার জন্য আছে দুর্গা পূজার শুভেচ্ছা পাতা, আর সব ক্যাটাগরির স্ট্যাটাস একসঙ্গে পাবেন বাংলা WhatsApp স্ট্যাটাস হাবে।
শুভ মহালয়া বলা ঠিক কি না, সেই তর্কটাও এই পাতায় আছে, একদম শেষে।
সেরা মহালয়ার শুভেচ্ছা
ভোরের আলো ফোটার আগেই রেডিওতে চণ্ডীপাঠ, আর মনে একটাই কথা: মা আসছেন। শুভ মহালয়া।
পিতৃপক্ষ শেষ, দেবীপক্ষের শুরু। নতুন আলো তোমার দিনটাকে ভরিয়ে দিক। শুভ মহালয়া।
আজ থেকে দিন গোনা শুরু। মায়ের আগমনী তোমার ঘরে সুখ নিয়ে আসুক।
যে ঘরে আজ চণ্ডীপাঠ বেজেছে, সেই ঘরে অমঙ্গল ঢোকে না। শুভ মহালয়া, ভালো থেকো।
কাশফুলের দোলা আর ঢাকের কাঠি, দুটোই আজ থেকে তোমার। শুভ মহালয়ার শুভেচ্ছা।
মহালয়া মানে অপেক্ষার শেষ ধাপ। সাত দিন পরেই মা। শুভ মহালয়া তোমাকে আর তোমার পরিবারকে।
তোমার সব দুশ্চিন্তা অমাবস্যার সঙ্গে শেষ হোক, দেবীপক্ষের আলো তোমার হোক।
আজ ভোরে যে সুরটা শুনে ঘুম ভাঙল, সেটাই এই বছরের প্রথম পুজোর গন্ধ। শুভ মহালয়া।
ভোরের মহালয়া স্ট্যাটাস
মহালয়ার স্ট্যাটাস বেশিরভাগ যায় ভোরবেলা, রেডিও বা ফোনে চণ্ডীপাঠ শোনার ফাঁকে। সেই সময়টার জন্য এই লাইনগুলো। ভোরের আরও স্ট্যাটাস, যেগুলো সারা বছর কাজে লাগে, আছে সকালের স্ট্যাটাস বাংলা কালেকশনে।
ভোর চারটে। অ্যালার্ম লাগেনি, চণ্ডীপাঠই ঘুম ভাঙিয়ে দিল। শুভ মহালয়া।
রেডিওর নব ঘোরানো ছোটবেলা আর ফোনে বাজানো এখন, সুরটা এক। শুভ মহালয়া।
আজ ভোরে গোটা পাড়া একসঙ্গে জেগেছে, প্রতিটা জানলা থেকে একই সুর।
ঘুমচোখে চণ্ডীপাঠ শুনতে শুনতে বুঝলাম, পুজো সত্যিই এসে গেছে। শুভ মহালয়া।
মহালয়ার ভোর বছরে একবারই আসে। আজ একটু আগে উঠে পড়ো, সুরটা মিস কোরো না।
এই ভোরটার জন্য গোটা একটা বছর অপেক্ষা। শুভ মহালয়া, সবাই ভালো থেকো।
চা হাতে, রেডিও চালু, বাইরে এখনও অন্ধকার। বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় ভোর।
যে ভোরে সূর্য ওঠার আগেই মন আলো হয়ে যায়, তার নাম মহালয়া।
পরিবারের জন্য মহালয়ার শুভেচ্ছা
মহালয়া পরিবারের দিনও। ভোরে যাঁরা তর্পণে যান, তাঁরা যান আগের প্রজন্মের জন্য; বাড়ির বড়রা তাই এই দিনে একটু চুপচাপ থাকেন। পরিবারের লাইনগুলো সেই মেজাজ মেনে লেখা, হইচই কম, শ্রদ্ধা বেশি।
আজ যাঁরা নেই, তাঁদের মনে করেই দিনটা শুরু। তারপর মায়ের আগমনী। শুভ মহালয়া, পরিবারের সবাইকে।
বাবা-মা, ভাই-বোন, আর যাঁরা আজ শুধু ছবিতে, সবাইকে নিয়ে এই মহালয়া।
ঘাটের ভোর, ঘরের ধূপ, আর মায়ের হাতের চা। পরিবার ছাড়া মহালয়া হয় না।
দূরে থাকা ভাইকে আজ ফোন করো। চণ্ডীপাঠ ও-ও শুনছে, একই সময়ে।
আগের প্রজন্ম আমাদের এই ভোরটা চিনিয়েছিল, আমরা পরের প্রজন্মকে চেনাব। শুভ মহালয়া।
মা-বাবার আশীর্বাদ আর মায়ের আগমনী, দুটো মিলেই আমার মহালয়া। সবাই ভালো থেকো।
এই বাড়ির রেডিওটা তিন প্রজন্ম ধরে একই দিনে একই সময়ে বাজে। শুভ মহালয়া, পরিবার।
বন্ধুদের জন্য মহালয়ার শুভেচ্ছা
বন্ধুদের গ্রুপে মহালয়ার মেসেজ মানে প্ল্যানিংয়ের শুরু: কোন দিন কোন প্যান্ডেল, কে কবে ছুটি পাচ্ছে। সেই মেজাজের লাইন নিচে; বন্ধুত্ব নিয়ে আরও স্ট্যাটাস আছে দোস্তি স্ট্যাটাস বাংলা কালেকশনে।
শুভ মহালয়া! আজ থেকে গ্রুপে একটাই টপিক: পুজোর প্ল্যান।
চণ্ডীপাঠ শেষ, এবার প্যান্ডেলের লিস্ট বানাও। সাত দিন সময়।
মহালয়ার ভোরে যে বন্ধু ফোন করে ঘুম ভাঙায়, সে-ই আসল বন্ধু। শুভ মহালয়া রে।
আজ থেকে কাউন্টডাউন শুরু। অষ্টমীর অঞ্জলিতে দেখা হচ্ছে। শুভ মহালয়া।
পুজোর জামা কেনা হয়েছে? না হলে আজই শুরু করো, মহালয়া এসে গেছে।
তোদের সঙ্গে প্যান্ডেল ঘোরাটাই আমার পুজো। মহালয়ার শুভেচ্ছা, বন্ধুরা।
রেডিওতে চণ্ডীপাঠ আর গ্রুপে তোদের মেসেজ, দুটো একসঙ্গে এলে বুঝি মহালয়া।
ভক্তিমূলক মহালয়ার শুভেচ্ছা
চণ্ডীপাঠের দিনে ভক্তির লাইনই সবচেয়ে বেশি চলে। নিচের লাইনগুলোর একটা শ্রীশ্রীচণ্ডীর মন্ত্র, বাকিগুলো নিজের ভাষায় প্রার্থনা। এই সুরের আরও বাণী, সারা বছরের জন্য, রাখা আছে গীতার বাণী পাতার ভক্তি ও ভরসার অংশে।
সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে, শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোহস্তু তে। (শ্রীশ্রীচণ্ডী)
মা, তোমার আসার খবরেই ঘর আলো হয়ে যায়। আমাদের সবাইকে ভালো রেখো। শুভ মহালয়া।
অসুর বাইরে নয়, ভিতরেই। মা, এবার সেটাকে বধ করো।
দেবীপক্ষের প্রথম দিনে একটাই প্রার্থনা: যেন কারও চোখে জল না থাকে।
চণ্ডীপাঠের প্রতিটা শব্দ শুনতে শুনতে মনে হয়, শক্তি বাইরে থেকে আসে না। শুভ মহালয়া।
মা দুর্গা, তোমার আগমনে দূর হোক ভয়, দূর হোক অন্ধকার। মহালয়ার প্রণাম।
আজ কুমোরটুলিতে মায়ের চোখ আঁকা হল। এবার মা আমাদের দেখবেন। শুভ মহালয়া।
মহালয়ার ভোরে মায়ের কাছে চাইলাম না কিছু, শুধু বললাম, এসো।
দুই লাইনের মহালয়া ছড়া
দুই লাইনের মিল দেওয়া ছড়া স্ট্যাটাসে সবচেয়ে বেশি শেয়ার হয়। নিচের সাতটা এই পাতার জন্য লেখা; এই ঢঙের আরও ছোট লাইন পাবেন বাংলা শায়েরি পাতার দুই লাইনের অংশে।
ভোরের রেডিওয় চণ্ডীর সুর, অমাবস্যার আঁধার হল দূর। শুভ মহালয়া।
কাশের বনে হাওয়ার দোল, মা আসছেন, খোল রে খোল।
পিতৃপক্ষের শেষে আজ, দেবীপক্ষের নতুন সাজ।
ঘুম ভাঙল চারটে ভোরে, মা আসছেন আমার ঘরে।
শিউলি ঝরে উঠোন জুড়ে, মহালয়া এল ঘুরে ঘুরে।
তর্পণের জল, আগমনীর গান, মহালয়া মানে দুটোই সমান।
অন্ধকারে সুরটা বাজে, মা আসছেন নতুন সাজে। শুভ মহালয়া।
ছোট মহালয়ার শুভেচ্ছা (Emoji)
স্ট্যাটাসে বসানোর জন্য ছোট লাইন। পুজোর বাইরে এক লাইনে কাজ চালাতে চাইলে ছোট স্ট্যাটাস বাংলা কালেকশনটা দেখুন।
শুভ মহালয়া! 🌼
মা আসছেন। 🙏
দেবীপক্ষের শুভেচ্ছা। 🌺
ভোর চারটে, চণ্ডীপাঠ, শুভ মহালয়া। 📻
আগমনীর শুভেচ্ছা সবাইকে। ❤️
কাশফুল, শিউলি, মহালয়া। 🌾
মহালয়ার প্রণাম। 🙏🌸
সাত দিন বাকি। শুভ মহালয়া। ⏳
মহালয়ার শুভেচ্ছা পাঠানোর আগে
'শুভ মহালয়া' কথাটা নিয়ে প্রতি বছর একটা তর্ক ওঠে। মহালয়া পিতৃপক্ষের শেষ দিন, তর্পণের দিন, প্রয়াতদের স্মরণের দিন; তাই অনেকে বলেন এই দিনে 'শুভ' শব্দটা মানায় না, প্রণাম জানানোই যথেষ্ট। অন্য দিকে, এই ভোরেই চণ্ডীপাঠ, আগমনী গান আর দেবীপক্ষের সূচনা, তাই বেশিরভাগ বাঙালি নির্দ্বিধায় শুভ মহালয়া বলেন। দুটো মতই চলে। যাঁকে পাঠাচ্ছেন তিনি যদি সকালে তর্পণে গিয়ে থাকেন, 'মহালয়ার প্রণাম' বা 'দেবীপক্ষের শুভেচ্ছা' লেখাটা নিরাপদ; ওপরের প্রতিটা ভাগে সেই ধরনের লাইনও রাখা আছে।
সময়টাও জরুরি। মহালয়ার মেসেজ রাত বারোটার মেসেজ নয়, ভোরের মেসেজ; চণ্ডীপাঠ শেষ হওয়ার পরে, সকাল সাতটা-আটটার মধ্যে পৌঁছলে সেটা দিনের সঙ্গে মেলে। দুপুরে পাঠালে পড়ে থাকে।
২০২৬-এ মহালয়া ১০ অক্টোবর, শনিবার; ষষ্ঠী ১৭ অক্টোবর আর বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর, বাংলার পঞ্জিকা অনুযায়ী। মরসুমটা এখানে শুরু, শেষ হয় আলোর উৎসবে; তার জন্য কালী পূজার শুভেচ্ছা পাতা আলাদা করে আছে।
মহিষাসুরমর্দিনী দেড় ঘণ্টার অনুষ্ঠান, ভোর চারটেয় শুরু হয়ে সাড়ে পাঁচটায় শেষ। শুভেচ্ছাটা তাই ছোট রাখুন: ভোরে ফোন হাতে নিয়ে কেউ লম্বা লেখা পড়ে না, আর সুরটা তখনও বাজছে।